একুশের ভোটের আগে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন।

জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে রাজ্য পুলিশ গঠন করল বিশেষ হাঙর (SHARK) বাহিনী

 

প্রায় এক দশক পর সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় জঙ্গল মহলে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে মাওবাদী আতঙ্ক।। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও ঘটনাতেই সরাসরি মাওবাদী যোগ প্রমাণিত হয়নি বলেই দাবি প্রশাসনের।। তা সত্ত্বেও একুশের ভোটের আগে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন।। আর এই কারণেই গঠিত হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী হাঙর।

বেলপাহাড়ি থানা এলাকায় সাম্প্রতিক সন্দেহজনক কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে ঝাড়গ্রাম পুলিশ 30 সদস্যের মাওবাদী দমনে বিশেষ বাহিনী SHARK গঠন করল।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রাজ্যের জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে 'শার্ক' নামে একটি বিশেষ কাউন্টার ইউনিট গঠন করেছে, যেখানে প্রায় এক দশক পরে গত কয়েক সপ্তাহে মাওবাদী কার্যকলাপের খবর পাওয়া গেছে। দশ বছর আগে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম এই চার জেলায় ছিল মাওবাদী আন্দোলনের আধার।
 গত ৪ সেপ্টেম্বর, স্থানীয় ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়া প্রায় ২০ থেকে পঁচিশটি মাওবাদী নামকরে পোস্টার বেলপাহারী ও বাঁশপাহাড়ি সংযোগকারী রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলছে ওই এলাকায়।গত ১৩ ই আগস্ট ভূলভেদা, টঙ্গবেদা এবং চরকপাহারি গ্রামে একই রকম হাতে লেখা পোস্টার পাওয়া গিয়েছিল এবং গ্রামবাসীদের ১৫ ই আগস্টকে “কালা দিবস” হিসাবে পালন করতে বলা হয়েছিল। দু'দিন পরে পার্শ্ববর্তী লালগড় এলাকার একটি গ্রামে একটি মাওবাদী দলকে দেখাও যায় বলে গোয়েন্দাদের দাবি। জঙ্গলমহলে নতুন করে একটি ঘাঁটি স্থাপনের সম্ভাব্য লক্ষ্য নিয়ে মাওবাদীরা প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছে।
ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবাংলার কিছু এলাকায়  কিছু বহিরাগত লোক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এমনটাই অনুমান গোয়েন্দাদের। সেই জন্য এই স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। যে কোনও অপারেশনের জন্য প্রস্তুত ‘শার্ক’। সিআইএফ এবং সিআরপিএফের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। 
জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই করা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা সিআইএফ বা Counter Insurgency Force এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) এর সাথে মাওবাদীদের টার্গেট করার জন্য সমন্বয় করে কাজ করবে।
স্কোয়াডটি জঙ্গলে সমস্ত কঠোর অভিযানে মোতায়েন করা হবে। তাদের অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, এবং চোখের পাতায় শুটিং শেখানো হয়েছে। জঙ্গলমহলে, এই গ্রুপটি স্থানীয় তথ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করতেও ব্যবহৃত হবে।প্রতিপক্ষ শত্রুকে চোখের পলকে নিমেষে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে এই বাহিনী।
মাওবাদী হামলার সময় সুরক্ষা সংস্থাগুলির সমন্বয় সাধন করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ জাতীয় পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদীরা সাধারণত পালাতে সক্ষম হয়।এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এই বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে।সবদিক দিয়ে শারীরিক সুস্থতা দেখে ৩০ জন সদস্য কে নিয়ে মাওবাদী দমনে বিশেষ বাহিনী শার্ক স্কোয়াড তৈরি করা হয়েছে। তাদের কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে রাখা হয়েছে ।বেলপাহারীতে পোস্টারের উপস্থিতির পরে, রাজ্য পুলিশ প্রধান বীরেন্দ্র ৫ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রাম নতুন পুলিশ লাইনে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (পশ্চিম অঞ্চল) সঞ্জয় সিংহ এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহল অঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলিতে মাওবাদীদের উপস্থিতি ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে শীর্ষে ছিল। ২০০৮ সালের ২ শে নভেম্বর মাওবাদীরা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ানের কনভয় লক্ষ্য করে লক্ষ্য ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। 
২০০৯ সালে, স্থানীয় চিকিত্সক,দের একটি গাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল।
২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর ঝাড়গ্রামে যৌথবাহিনীর সাথে লড়াইয়ে সিপিআই (মাওবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য কোটেশ্বর রাও ওরফে কিশেনজি নিহত হওয়ার পরে এলাকার সমস্ত মাওবাদী কার্যক্রম শেষ হয়েছিল।
 সাম্প্রতিক নতুন কিছু ঘটনায় নড়েচড়ে বসে রাজ্য পুলিশের এই সিদ্ধান্ত।


Comment As:

Comment (0)