প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রয়াণে শ্রদ্ধা স্মরণে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

প্রণব মুখোপাধ্যায় স্মরণে তমলুকে সভা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, মুখেও আনলেন না তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

তিনি এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য। কিন্তু দলের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের সম্পর্ক এখন ঠিক কেমন- তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। 
স্পষ্ট উত্তর মিলছে না শুভেন্দুর তরফেও। মঙ্গলবার দীর্ঘ অন্তরাল ভেঙে জমায়েতের সামনে এলেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। 
কিন্তু সভায় ভাষণে শুভেন্দুর মুখে একটিবারের জন্যেও নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এল না!
তৃণমূলের ব্যানারে প্রণব-স্মরণের আয়োজন তিনি করেননি। ‘তাম্রলিপ্ত জনকল্যাণ সমিতি’ নামে যে সংগঠনের তরফে ওই স্মরণসভার আয়োজন, শুভেন্দুই তার সভাপতি। কিন্তু শুভেন্দুর সভাস্থল তেরঙায় মোড়া থাকলেও কোথাও তৃণমূলের নাম বা প্রতীক ছিল না। 
সভাস্থল তমলুকের  নিমতৌড়ি। ২০০৯ সালে এই তমলুক লোকসভা আসন থেকেই সিপিএমের তৎকালীন দোর্দণ্ডপ্রতাপ সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন শুভেন্দু। 
সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু আজ সেই জয়কে স্মরণ করেছেন। জানিয়েছেন, তাঁর সেই জয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের খুব বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু দলের কথা একবারও বললেন না।
২০০৯-এর সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে তৃণমূল লড়েছিল। সেই সূত্রেই তৃণমূল প্রার্থী শুভেন্দুর জন্য তমলুকে সভা করতে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতাদের অন্যতম প্রণববাবু। প্রণববাবুর সেই সভার কথা এ দিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর কথায়, ‘‘২০০৯ সালে আমি যখন লোকসভায় এখানে লড়াই করছি, প্রণববাবু পুরুলিয়া থেকে হেলিকপ্টারে এসেছিলেন মহিষাদলে। আমার কাঁধে হাতটি রেখে মহিষাদলের মানুষের কাছে বলে গিয়েছিলেন, আমি তোমাদের এটুকু বলতে এসেছি, আমার উত্থান সতীশদা (সতীশ সামন্ত), সুশীলদার (সুশীল ধাড়া) হাত ধরে। আমি শুভেন্দুকে দিয়ে গেলাম তমলুকের মানুষের কাছে। শুভেন্দুকে তোমরা জেতাও, শুভেন্দু তোমাদের সঙ্গে কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।’’ 
এত কথা বললেও নির্বাচন যে দলের টিকিটে তিনি লড়েছিলেন, সেই দল বা সেই দলের নেত্রীর কথা ছুঁয়েও যাননি শুভেন্দু।
তৃণমূল তৈরি হওয়ার আগে যখন প্রণববাবু প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হন, তখন নিজের কোটায় তিনি শুভেন্দুকে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য করে নিয়েছিলেন। সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। 
 প্রতি বছর ভয়াল বন্যার মোকাবিলায় কেলেঘাই-কপালেশ্বরী প্রকল্পে যে অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণববাবু করেছিলেন, তাতেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে শুভেন্দু জানান। 
বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ঘোষণা করলেন এবং আমার পিতৃদেব শিশির অধিকারী ও আমার দিকে তাকিয়ে বললেন— তোদের এলাকার জন্য এটা দিয়ে গেলাম।’’ 
শুভেন্দুর আরও বক্তব্য, প্রণববাবুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ প্রয়াত নেতার আত্মজীবনীতেও তাঁর উল্লেখ।


Comment As:

Comment (0)